1. admin@miarhat.com : admin :
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ হেডলাইন
ঢাকায় জমকালো আয়োজনে ইয়েল ব্যান্ডের ৩৪ বছর পূর্তি উদযাপন মিলন আব্দুল্লাহ ৩য় বই স্মৃতির কয়েদির মোড়ক উন্মোচিত অসহায় রোগীদদের সেবা করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শেবাচিমের কর্মচারী সুমন আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল হোসেন স্মরণে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা মাননীয় কৃষি মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ডিকেআইবি মাদারীপুর ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে বোমা হামলা কালকিনিতে বিজয় দিবসে আনন্দ র‌্যালি করে রেকর্ড করলেন শিকারমঙ্গল মানব কল্যান সংগঠন মাদারীপুর ৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করলেন যারা ৬ষ্ঠ বারের মত চ্যাম্পিয়ন হলেন অস্ট্রেলিয়া মাদারীপুর ২ আসনের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করবেন গোলাম রাব্বানী

কাশেমের জীবন নিয়ে আমিনুল ইসলামের লেখা “অনিশ্চিত জীবন” মন ছুয়ে গেলো মিয়ারহাটবাসীর

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০২২
  • ৯৩৯ বার পঠিত
অনিশ্চিত জীবন - আমিনুল ইসলাম
অনিশ্চিত জীবন - আমিনুল ইসলাম - কাশেম মিয়ারহাট বাজার

অনিশ্চিত জীবন  – আমিনুল ইসলাম

ঠিক বিকেল দুইটা, একা একা কী মানুষ হাঁটতে পারে? কই আমি তো পারি না, তবে ওই তরুণ পারে। হঠাৎ কাল-বৈশাখীর মত এলো-মেলো বাতাস বইছে, মনে হচ্ছে ঝড় আসছে। প্রবল বাতাসে চলার পথে খেজুর গাছের অনেকগুলা কাটাসহ পাতা ঝড়েছে। আমি জানি ওর গন্তব্য কোথায়! অন্য সকলে পরিবার-পরিজন,ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজ-সংসার,হাসি-তামাশা নিয়ে খুব ব্যস্ত।কারো সময় হয়ে উঠেনা কাঁটাযুক্ত খেজুরের পাতা রাস্তা থেকে অনত্র সরিয়ে ফেলার মতো। কিন্তু ও দেখা মাত্রই স্ব-দায়িত্বে পাতাটা সরিয়ে ফেললো। এই আহরণই ওকে অন্য সকল মানুষ থেকে আলাদা করেছে।

এলাকার সুবিখ্যাত বাজার , হাজার মানুষের ঢল লেগে থাকে সব সময়ই। বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন-ভিন্ন চাহিদা, কেউ গল্প সমেত চা-সিগারেট পান করে। চা-সিগারেট এর চাহিদা মিটিয়ে থাকে হাতে গোনা কয়েকটা দোকান। তারমধ্যে আকাশের চায়ের দোকান অন্যতম।আবাদ-বৃদ্ধ সকলেই অতিপরিচিত সমাবেশ স্থল।

অনিশ্চিত জীবন (কাশেম মিয়ারহাট)

অন্যদিকে ছেলেটি রোগা-সোগা হলেও তার মুখের চিরস্থানী একটা হাসির কারণে সব সময়ই তরুণ্যেরভাব বিরাজমান। ছেলেটি রাস্তার কাটা সরিয়ে বাজারে পৌঁছেছে, ততোক্ষণে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, তার হাতে প্রচুর কাজ। চায়ের দোকানের জল যোগান দেওয়াই তার প্রধাণ কাজ।পাশা-পাশি সকলের মাঝে চা পরিবেশন করেও থাকে। কাজের মাঝে হঠাৎ শুনতে পায় পাশের গ্রামে বিয়ের অয়োজন হচ্ছে। কন্যা পক্ষের বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান । বিয়ের খবর পেলেই সে কী আকাশ ছোয়া আনন্দ, আনন্দ তার চোখে-মুখে সর্বত্র ছড়িয়ে পরে, অনুষ্ঠানে তাকে যেতেই হবে।কারণ সে অঘোষিত প্রধাণ অতিথির মতো প্রত্যেক অনুষ্ঠানের মধ্যেমণি। হাতের সকল কাজ ঘন্টাখানেকের মধ্যে শেষ করতে হবে। কারণ অনুষ্ঠান যে ৯:০০ আগেই শুরু হয়ে যাবে। তার চিরচায়িত কষ্টের কাজ হচ্ছে জল পরিবহন করা যা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। ধুকপান করা তার একটি বিশেষ বদভ্যাস। গ্রামের চতুর শ্রেণীর লোক তার সরলতার সুযোগ নিয়ে হাসিঠাট্টার ছলে ধুমপায়ী বানিয়েছে। সিগারেট হাতে নিয়ে জল আনছে। সিগারেট টানার সাথে নলকূপ থেকে পানি তুলতে নাকি সে অন্যরকম আনন্দ খুঁজে পায়। এতক্ষণে মুখের সিগারেট আর বালতির জল ভরা দুটোই শেষ। আবার নতুন সিগারেট ধরিয়ে দু’হাতে দুটি জলভর্তী বালতি নিয়ে অন্ধকারেই জল আনার কাজ চলে টানা ঘন্টা খানিক।

হঠাৎ করে শব্দ হলো, কিছু লোক শব্দ পেয়ে এগিয়ে গেলো, দেখতে পেল কাশেম পরে আছে। জলভরা বালতি নিয়ে হোঁচট খেয়েছে এবং পা, ভাঙ্গা ইটের সাথে লেগে অনেকখানি কেটে গেছে। প্রচন্ড ব্যাথায় কাতরাচ্ছে, ঔষধ খাওয়ার মত টাকা থাকলেও কাটা পা জীবানু-নাশক ব্যান্ডেজ করার পয়শা নাই। তাই হাতের কাছে পুরাতন কাপড়ের বাঁধাণই তার কাছে সর্বত্তম ব্যান্ডেজ।
চারদিকে বিয়ে বাড়ি নিয়ে গল্প-গুজব হচ্ছে, তার কাছে বিয়ে বাড়ির পরিবেশ সবচেয়ে আনন্দ ও বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাসের। সময় ঘনিয়ে এসেছে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার। স্থানীয় ছেলে-মেয়েরা যাচ্ছে,ওই দলে কাশেমও যোগ দিলো। অন্ধকারে সিগারেট ধরিয়ে হাটতে ওর কাছে সুবিধা মনে হয়। একটা সিগারেট ধরিয়ে নিলো, দু’টি সিগারেট বাকী। এদিয়েই রাত কাবার করতে হবে। বিয়ে বাড়ির গম-গম শব্দ হচ্ছে । সিগারেট প্রায় শেষ, অবশিষ্ট অংশ ফেলে বিয়ে বাড়ি ঢুকে পরলো।

ঢোকা মাত্রই কাশেম কাশেম ডাকে পুরো বাড়ি কম্পিত হয়ে উঠলো। এতে কাশেমের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে উঠলো। ছোট-বড় সকলের কাছে কাশেম একটা জনপ্রিয়তা রয়েছে।কারণ বিনোদনকারী মানুষের কদর জগৎ জুড়ে। সকলেই চেচিয়ে বলতে লাগলো কাশেম ডান্স দিবে। কারো বলা না বলার অপেক্ষা করে নাহ কাশেম। সে প্রত্যেক বাড়িতেই সআনন্দে নেচে বেড়ায়। কিন্তু আজকে নাচতে ইচ্ছে করছে নাহ , পায়ে এখনো তীব্র ব্যাথা। বক্সের সাউন্ডে মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে। সকলের কাশেম কাশেম ডাকে আর অভোলা কাশেম নিজেকে সামলাতে পারলো না।

অপারেটর সাহেব বলে উঠল কাশেম, কি গান চালাবো? আরে একটা ডিজে গান ছাড়লেই হইলো। গান নিয়ে কাশেমের মাথাব্যথা নেই।কারণ গান যাই বাজুক, তার নাচের একটাই স্টাইল এবং তা অদ্ভুত রকমের আনন্দ দায়ক। নাচ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত উচ্চ কন্ঠে কাশেম,কাশেম বলে উল্লাস করছে সবাই।

ক্লান্ত লাগছে, শরীর ঘেমে গেছে,পা ও ব্যথা শুরু হইছে। মাঝ বয়সি একজন এসে হাতে কিছু টাকা গুজে দিলো এবং রাতে খেয়ে যেতে বললো। খাওয়া শেষ,এখন প্রায় সারে বারোটা। এর মধ্যে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটলো। অন্ধকারে সিগারেট ধরিয়ে বাড়ির সম্মুখে হাঁটছে আর ভাবছে একটা সিগারেট আছে, একটু পরেই ওটা শেষ।

বাড়িতে এসে পরেছে কাশেম, সে ঘড়ি সময় চিনে নাহ, কিন্তু এখন সময়টা জানার খুব ইচ্ছে হচ্ছে। আনুমানিক ধরে নিল রাত ১:৪০/৫০ বাজে। সে আর কিছু ভাবে নাহ, ঘুমিয়ে পরে। আবার ঘুম ভাঙ্গে, বাজারে যায়, জল আনে, বিয়েতে যায়, নাচে এবং ঘুমিয়ে পরে। নিশ্চিত বা অনিশ্চিত জীবনযাপন করেই কাশেম শিশু থেকে তরুণ, তরুণ থেকে বৃদ্ধের পাণে ছুটে চলেছে। এই অনিশ্চিত একটি জীবন নিয়ে দিনের পর দিন পার করা যায়। কিন্তু ভবিষ্যৎ কি গরা যায়?

এ জাতীয় আরও খবর

© All rights reserved © 2022 Miarhat.com

Theme Customized By Miarhat